সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণে গত বছর দুই দফায় ৫৬ দিনের অনুমতি দিয়েছিল বন বিভাগ। কিন্তু এবার এক দফায় মাত্র ২৮ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতেই সময় কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে গোলপাতা আহরণ মৌসুম। চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। তাই সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে এখন নৌকা পুরোপুরি উপযোগী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালিরা। নৌকা মেরামতের এ সময়কে বাওয়ালিরা বলেন ‘শারণের সময়’।
সূত্র জানায়, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজবীদের মধ্যে রয়েছে জেলে, বাওয়ালি ও মাওয়ালি। যাঁরা গোলপাতা সংগ্রহ করেন স্থানীয়ভাবে তাঁদের বলা হয় বাওয়ালি। গোলপাতা বহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ নৌকাগুলো আকারে বড় হওয়ায় সেগুলো ‘বড় নৌকা’ বা ‘পেটকাটা নৌকা’ নামে পরিচিত। বন বিভাগের অনুমতি অনুযায়ী, ৫০০ মণ (১৮৬ কুইন্টাল) ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি নৌকা ২৮ দিন সুন্দরবনে অবস্থান করে নির্ধারিত এলাকা থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করতে পারবে।
খুলনার কয়রা উপজেলার বাওয়ালি আবদুল গনী জানান, গোলপাতা বহনের এসব নৌকা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। মৌসুম শেষে তাই সেগুলো নদীর চরে ফেলে রাখতে হয়।
কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া, কয়রা নদীর তীর, দাকোপ, মোংলা, শরণখোলাসহ উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীর পাড়ে কাত করে রাখা বড় নৌকাগুলোর নিচের পাটাতনে তক্তা বসানো হচ্ছে, কোথাও দেওয়া হচ্ছে আলকাতরার প্রলেপ। কোথাও রং করা হচ্ছে। প্রায় এক মাসের বাজার করে নৌকায় ভরছেন কেউ কেউ।
কাঠমিস্ত্রি মো. মইজ উদ্দীন জানান, গোলপাতা মৌসুমের আগে বড় নৌকাগুলোর ‘শারণ’ কাজ বেড়ে যায়।
এনসিটিনিউজ২৪.কম