কথাপ্রকাশের সামনে একজন বই দেখছিলেন। বিক্রয় কর্মীকে তিনি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঈদের পরে কয়দিন মেলা চলবে?’ এমন প্রশ্নে একটু অবাক হলেন স্টলের কর্মীরা। কারণ, মেলা শেষ হয়ে যাবে ঈদের আগেই, ১৫ মার্চ।
কথা বলে জানা গেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আনোয়ারুল ইসলাম জানতেন না, মেলা এবার ১৮ দিনেই শেষ! আনোয়ারুল মনে করেন, রমজানে বইমেলার আয়োজন পাঠক হিসেবে তাঁর কাছে ঠিক জুতসই নয়। কারণ, মেলায় যে সময়টা তিনি দিতে চান, তা পাওয়া যায় না। আনোয়ারুল বললেন, মেলায় এসে ঘুরে ঘুরে বই দেখায় ৩-৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া দরকার। কিন্তু রমজানে রোজা রেখে সেই সময়টা পাওয়া যায় না। আর শরীরে অত শক্তিও থাকে না। মেলা রমজানের আগে কিংবা ঈদের পরে হলে ভালো হতো।
এবার বইমেলার সময়সূচি ঠিক করা ছিল সবার জন্যই জটিল কাজ। বরাবর মেলা হয়ে আসছে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর মাস ফেব্রুয়ারি ধরে। তবে এবার মেলা পেছানোর কারণ ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পঞ্জিকার হিসাবে আগেও রমজানে বইমেলা হয়েছে। মেলায় ইফতার করার অভিজ্ঞতা বইপ্রেমীদের কম নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত বইমেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা খুব উৎসাহব্যঞ্জক নয়। শুরুতে দুটি ছুটির দিনের ভিড় হতাশ করেছে। শুধু রমজানের কারণে এই অবস্থা, তা যুক্তিতে মেলে না।
কথাপ্রকাশের ব্যবস্থাপক মো. ইউনুসের সঙ্গে মেলার আবহ নিয়ে কথা হলো। তিনি বললেন, ‘অনলাইনসহ নানাভাবে এখন ঘরে বসেই বই কেনা যায়। এবার তারিখ নিয়েও বিভ্রান্তি ছিল। এসব মিলিয়ে রমজানে কষ্ট করে খুব কম লোকই বইমেলায় আসছেন। শতকরা ১০ ভাগ পাঠকও মেলায় এ পর্যন্ত আসেননি।’
এনসিটিনিউজ২৪.কম