শিক্ষা-সংস্কৃতির নগরী ময়মনসিংহ এখন ছিনতাইয়ের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন নগরবাসী। দিন কিংবা রাত কোনো সময়েই বাদ যাচ্ছে না ছিনতাই। অনেক সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়া প্রতিবাদকারীদের দিতে হচ্ছে প্রাণ। পুলিশ বলছে, ২০২৫ সালে জেলায় মোট ১১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৮-২০টি কোনো না কোনোভাবে ছিনতাইকারীদের হাতে।
সাম্প্রতিক ঘটনার তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নগরের পুরোনো ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলন্ত অটোরিকশার মধ্যে পেটে ছুরি ধরে চার ছিনতাইকারী মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় শিক্ষার্থী মোবাশ্বির ইসলাম সাদের। এ সময় কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায়নি।
মোবাশ্বির ইসলাম সাদ বলেন, ‘তাদের দেখে মনে হয়েছে নেশাখোর। তাই প্রাণের ভয়ে যা চেয়েছে দিয়েছি। অটোতে আরও যাত্রী থাকলেও কেউ কথা বলার কোনো সাহস পায়নি।’
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন আনন্দ মোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। এর দুদিন পর নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর লাশ। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে নগরী। আলটিমেটামের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৬ ছিনতাইকারীকে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এনজিওকর্মী শামীম মিয়া ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে সন্ধ্যার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইল ফোন। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করলেও এখনো মেলেনি কোনো প্রতিকার।
এনসিটিনিউজ২৪.কম