২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শনিবার | দুপুর ২:২৬ মিনিট
ঋতু : বসন্তকাল | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম :
বন্দর রাজবাড়ীর নূর মোহাম্মদ ব্যাংকারের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল পুরুষরা এখনো স্ত্রী হিসেবে কুমারী কনে খোঁজে: নীনা গুপ্তা ইসলাম রমজানের প্রথম ১০ দিনে করণীয়…….. ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছাড়লেন যুবক আরব অঞ্চলে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ : জামায়াত আমির আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে সংসদের অধিবেশন বসবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরুতেই ধাক্কা খেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রশাসনে মবকে প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে : তথ্যমন্ত্রী বাংলা ভাষার সঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না : বিদ্যুৎমন্ত্রী ভাষাশহীদদের চেতনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার দু-এক দিনের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হবে : জামায়াত আমির মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ২ আনসার সদস্য আটক প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য থাকবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করবেন তারেক রহমান। বাসায় ডেকে নবম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মামলা জট, ভোগান্তির শেষ নেই পারিবারিক আদালতে

ncitynews24.com
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫ | আপডেট: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫

পারিবারিক কলহের জেরে দায়ের করা মামলায় ভোগান্তির শেষ নেই বিচারপ্রার্থীদের। বিচারের জন্য বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে আদালতের বারান্দায়। পারিবারিক মামলা বিশেষ করে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে পারিবারিক আদালতে থাকা মামলাগুলো ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। পারিবারিক আদালতে কোনো মামলা ৮ থেকে ১০ বছর ধরেও ঝুলতে দেখা গেছে। সারা দেশে পারিবারিক আদালতগুলোর কাঁধে বিচারাধীন ৯০ হাজার মামলার বোঝা। এর মধ্যে ঢাকার তিনটি পারিবারিক আদালতেই ঝুলছে ১৩ হাজার মামলা। ঢাকায় ২৬ বছরে মামলার সংখ্যা বাড়লেও, বাড়েনি আদালত। মামলার চাপে কয়েকমাস পর পর পড়ছে শুনানির তারিখ। শুনানির এ তারিখও তদবির ছাড়া স্বল্প সময়ে মেলে না। আবার তারিখ পড়লেও শুনানি না হওয়ায় ফিরে যেতে হয় বিচারপ্রার্থীদের। এ ভোগান্তির মাঝে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে পারিবারিক মামলা নিয়ে নতুন অধ্যাদেশ। আদালতে আসার আগে মামলা নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের যেতে হবে লিগ্যাল এইড অফিসে। লিগ্যাল এইড অফিসের পরিধি না বাড়ালে এমন সিদ্ধান্ত ভোগান্তি কমানোর চেয়ে বরং বাড়াবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা রিমা আক্তার। ২০১৬ সালের ১ জুলাই তার স্বামী মিরাজুল ইসলাম সৌদি আরব যাওয়ার পর রিমা ও তার ছোট মেয়ের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। তাই ২০১৮ সালে তিনি তার স্বামী মিরাজুলের বিরুদ্ধে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। মামলার পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর রিমাকে দেনমোহরের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ তার ও মেয়ের ভরণপোষণ বাবদ মোট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রায় দিয়েছিলেন ঢাকার তৃতীয় পারিবারিক আদালত। এ ছাড়া প্রতি মাসে তাদের ৭ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর মিরাজুল দেশে এসে মামলা সম্পর্কে অবগত নন মর্মে একটি ‘মিস কেস’ করেন। এ মামলার বিচার এখনো চলছে। দেনমোহর ও ভরণপোষণের টাকার জন্য বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন রিমা ও তার ছোট্ট মেয়ে। রিমা আক্তার কালবেলাকে বলেন, মামলার সাত বছর হয়ে গেল। এখনো আমি আমার বিচার পেলাম না। আগে দুই থেকে তিন মাস পর পর মামলার ডেট দেওয়া হতো। অনেক সময় বিচারক ধার্য তারিখে শুনানি করেন না। কখনো কখনো বিবাদীপক্ষ টাইম পিটিশন দিয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে। তবে এখনো বিচারের আশায় আছি। জানি না কবে আমি আর আমার ছোট্ট মেয়ে বিচার পাব।

২০২১ সালের ৭ নভেম্বর পারিবারিক এক মামলার রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে পারিবারিক আদালতে থাকা মামলাগুলো ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু তারপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সরেজমিন ঢাকার তিনটি পারিবারিক আদালত ঘুরে দেখা যায়, ছোট্ট এজলাস কক্ষ। প্রতিটি কক্ষই নথিতে ভরা, এদিকে-ওদিকে ছড়িয়ে আছে। ভেতরে বেঞ্চ সীমিত। ৮ থেকে ১০ জনের বেশি বসার সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বিচারপ্রার্থীদের। আশপাশে নেই কোনো বিশ্রামাগার। এ ছাড়া শৌচাগার সংকট এ কোর্টের দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই বিচারপ্রার্থী বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য চরম ভোগান্তি বয়ে আনছে পারিবারিক মামলা।

কয়েক দশক ধরে পারিবারিক মামলা নিয়ে কাজ করা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মলয় সাহা কালবেলাকে বলেন, ২০০০ সালে ঢাকায় পারিবারিক আদালতের সংখ্যা ছিল তিনটি। ২৬ বছর পরও সেই তিনটিই আছে। অথচ এখন মামলা বেড়েছে বহুগুণ। এই ২৬ বছরে নারী ও শিশু আদালত ঢাকায় একটি থেকে এখন ৯টি হয়েছে। অর্থঋণ আদালত চারটি থেকে এখন সাতটি হচ্ছে। সিএমএম কোর্ট বেড়েছে। তাহলে পারিবারিক আদালত বাড়ছে না কেন?

তিনি আরও বলেন, নতুন করে যে অধ্যাদেশ হলো, তাতে পারিবারিক আদালতে আসার আগে মামলা লিগ্যাল এইড অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এতে মামলায় ভোগান্তি আরও বাড়বে। কারণ, লিগ্যাল এইড অফিসের পরিধি ছোট। যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে পরিধি না বৃদ্ধি করলে তিন কোর্টের সব মামলা একটি অফিসে গেলে ভোগান্তি বাড়বে ছাড়া কমবে না।

কালবেলা…