বই মেলার আমেজ তো আছেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাগুন। ফলে বাড়তি মাত্রা পেয়েছে বই মেলার চিত্র। প্রিয়জনকে বই উপহার দেয়া, বইয়ের সঙ্গে ছবি তোলা, ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে উঠা, সবই যেন অনন্য। সরজমিন মেলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মেলায় আগত অধিকাংশ দর্শনার্থীকে দেখা গেছে যুগলবন্দী অবস্থায়। বেশিরভাগই উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী। প্রায় সকলের গায়েই জড়ানো ছিল বসন্ত নির্দেশক নানা রঙের পঞ্জাবি ও শাড়ি। নারীদের মাথায় শোভা পেয়েছে বাহারি ফুলের রিং। নারীদের অনেককে কালো বোরকার সঙ্গে মাথায় এই ফুল গুঁজে পছন্দের বই কিংবা প্রকাশনীর স্টলে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
তবে একসঙ্গে এত উপলক্ষ মেলার ওপর সৃষ্টি করেছে বাড়তি চাপ। মেলা সকাল ১১টা থেকে শুরু হলেও বিকাল থেকেই চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে হাঁটার মতো জায়গা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য কতটুকু উপভোগ্য হতে পেরেছে মেলা তা বলা কঠিন।
তবে বই বিক্রি হয়েছে বেশ ভালোই, মেলায় ছুটির দিনে স্বভাবতই বিক্রি বেশি থাকে, তার সাথে যুক্ত হয়েছে ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের আমেজ। ফলে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নে।
প্রথমা প্রকাশনীর স্টলে থাকা তাইমুন ইসলাম জানান, আমাদের প্যাভিলিয়নে সবসময়ই ব্যস্ততা থাকে, কিন্তু আজকে বেশি চাপ হয়ে যাচ্ছে, সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রচুর মানুষ বই কিনছেন, একটু কষ্টকর হলেও এমন পরিবেশই কাম্য।
মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনীর স্টল থেকে সাকিব জানান, একসাথে তিনটা কারণে আজকে আমাদের একটু চাপ হয়ে যাবে। ছুটির দিনের সঙ্গে আজকে পহেলা ফাগুন ও ভালোবাসা দিবস। বিকেল থেকে রাত অবধি ব্যাপক বেচা বিক্রির আশা রাখছি।
মেলায় ঘুরতে আসা দম্পতি জারিন ও বরকত জানান, আমরা বছরের খুব কম সময়ই এভাবে সেজে-গুজে আনন্দ করার সুযোগ পাই। আজকের দিনটা শুক্রবার, ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি দিন।
সংগ্রহে—মানবজমিন