২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শনিবার | দুপুর ১২:২২ মিনিট
ঋতু : বসন্তকাল | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম :
বন্দর রাজবাড়ীর নূর মোহাম্মদ ব্যাংকারের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল পুরুষরা এখনো স্ত্রী হিসেবে কুমারী কনে খোঁজে: নীনা গুপ্তা ইসলাম রমজানের প্রথম ১০ দিনে করণীয়…….. ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছাড়লেন যুবক আরব অঞ্চলে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ : জামায়াত আমির আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে সংসদের অধিবেশন বসবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরুতেই ধাক্কা খেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রশাসনে মবকে প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে : তথ্যমন্ত্রী বাংলা ভাষার সঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না : বিদ্যুৎমন্ত্রী ভাষাশহীদদের চেতনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার দু-এক দিনের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হবে : জামায়াত আমির মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ২ আনসার সদস্য আটক প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য থাকবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করবেন তারেক রহমান। বাসায় ডেকে নবম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

জান্নাতিদের জীবন-যাপন যেমন হবে

ncitynews24
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৯ | আপডেট: শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৯

মানুষের দুনিয়ার চাকচিক্য ও ধন-সম্পদের ঐশ্বর্য এবং নারীসহ আকর্ষণীয় বস্তুর মোহের বর্ণনার পর জান্নাতের সুখ-শান্তি ও নেয়ামতের বর্ণনা করেছেন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে জান্নাতের ও জান্নাতবাসীদের নেয়ামত, পারস্পরিক সাক্ষাত এবং জান্নাতের জীবনাচরণ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

মুমিন বান্দা জান্নাতে যা চাইবে তা-ই পাবে। জান্নাতে যেমন জীবন-যাপন করার ইচ্ছা পোষণ করবে তাদের জীবনাচার তেমনিই হবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক দেখা-সাক্ষাৎ ও জীবনাচার সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে-

– হজরত শফি ইবনে মানে’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের নেয়ামতের মধ্যে এটি একটি নেয়ামত যে, জান্নাতবাসীগণ পরস্পর উট ও ঘোড়ার ওপর আরোহন করে পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবে। বিশেষ করে জুমআর দিন লাগাম ও জিনসহ ঘোড়া হাজির করা হবে। আর এ ঘোড়াগুলো মলমূত্র ত্যাগ করবে না। জান্নাতবাসীরা এসব ঘোরার ওপর আরোহন করে আল্লাহর ইচ্ছায় যেখানে মন চায় সেখানে যাবে।’

– হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি বিশাল গাছ রয়েছে, যার ওপরের অংশ থেকে জান্নাতিদের পরিধানের জন্য পোশাক বের হবে এবং নিচের দিক থেকে সোনার ধূসর রঙের ঘোড়া বের হবে।

আর ঘোড়াগুলোর লাগাম ও জিন হবে ইয়াকুত ও মুক্তার। এ ঘোড়াগুলোর থাকবে ডানা। এ ডানাগুলো ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে যতদূর দৃষ্টি যায়। এ ঘোড়াগুলো মলমূত্র ত্যাগ করবে না।

আল্লাহর বন্ধুগণ এ ঘোড়াগুলোতে আরোহন করবেন। জান্নাতিরা যেখানে যেতে চাইবেন, সেখানে উড়ে চলে যাবেন।
উড়ন্ত অবস্থায় নিচ থেকে যারা তাদেরকে দেখবেন তারা বলবেন এরা আমাদের আলোকে নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন।
তখন তাদেরকে জবাব দেয়া হবে যে, তারা দুনিয়াতে আল্লাহর পথে দান করতো আর তোমরা কার্পণ্য করতে, তারা জেহাদ করতো আর তোমরা বসে থাকতে।’ (তাফসিরে মাজহারি)

– হজরত রাবিয়া হারসি বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আমাকে স্বপ্নে বলা হয়েছে যে, একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করেছেন। অতঃপর সে বাড়িতে দস্তরখান বিছিয়েছেন। আর লোকজনকে একত্রিত করার জন্য একজন ঘোষক নিয়োগ দেন। সে ঘোষকের আহ্বানে যারা সাড়া দিয়ে দস্তরখানে খাবার গ্রহণ করেছেন; সে মহান ব্যক্তি তার (অংশগ্রহণকারীদের) প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। 

পক্ষান্তরে যারা এ দাওয়াত কবুল করেনি এবং সে ঘরে আসেনি, খাবার গ্রহণ করেনি; সে ব্যক্তির প্রতি বাড়ির মালিক নারাজ হয়।

অতঃপর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, বাড়ির মালিক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। আর সে ঘোষক হলেন হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বাড়ির দস্তরখান হলো আল্লাহ তাআলা ঘোষিত চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাত।’ (দারেমি)

কুরআন ও হাদিসে জান্নাতের বর্ণনা, জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবনাচরণসহ বিশদ আলোচনা করার কারণ হলো মানুষ দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী জীবনের ধন-সম্পদ, চাকচিক্য, আরাম-আয়েশের পেছনে না ছুটে চিরস্থায়ী জান্নাতের প্রতি মোহ তৈরি করা। কুরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে আখেরাতের সাফল্য লাভে নিজেকে এগিয়ে নেয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জান্নাতের অনূভূতি হৃদয়ে পোষণ করে পরকালের সফলতায় নিজেকে তৈরির করার তাওফিক দান করুন। আমিন।